বাংলাদেশ অভিজিৎদের নাকি রোহিঙ্গাদের?

লিখেছেনঃ রিয়ানা তৃনা

বাংলাদেশের মানুষের মানবতার দোহাই দিয়ে যে রোহিঙ্গা জাতিকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেবার কথা বলছেন, সেটাকে মানবতার দাবি কি করে বলি? আপনাদের মতো মানুষদের মুখে মানবতার কথা শুনলেই তো ভয় লাগে। শুধু কি ভয়? ঘৃণা হয়। গা গুলিয়ে ওঠে। আজ যেখানে বাংলা মায়ের বুক থেকে তাঁর সন্তানদের উপড়ে ফেলে ঘর আর দেশ ছাড়া করার চেষ্টা করছেন সেখানে রোহিঙ্গাদের ধর্মের ভাই করে বাংলা মায়ের সন্তান করে বাংলার ঘরে আশ্রয় দেয়ার চেষ্টা করছেন। কে হয় এই রোহিঙ্গারা আপনাদের ? কি সম্পর্ক এই রোহিঙ্গাদের সাথে আমাদের? মানবতার সম্পর্ক? নাকি জঘন্য ধর্ম রাজনীতির সুকৌশল এক চাল মাত্র!

মানবতার সম্পর্ক কি শুধু মুসলিম ভাই ভাই আর বোন বোনদের সাথে? বাংলাদেশের অমুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের সাথে কি মানবতার কোন সম্পর্ক নাই? রোহিঙ্গাদের জন্য হাহাকার আর যন্ত্রণা অনুভব করেন, আর বাংলাদেশের অমুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের চোখের জল আর কষ্ট কি আপনাদের মনে হাহাকার/যন্ত্রণার কারন হয়ে দাঁড়ায় না? এদের জন্য কি মানবতা আপনাদের ঘরে লজ্জা পেয়ে লুকিয়ে থাকে নাকি মানবতাকে ঘরে তালাবন্ধ করে আটকে রাখেন? আবার আপনারাই যখন রোহিঙ্গাদের নিয়ে এই মানবতার কথা বলন তখন ঘৃণায় মন বিষিয়ে ওঠে। তখন মনে হয় দুধ কলা দিয়ে বাংলার মায়ে ঘরে কালসাপ পুষছে। সুযোগ পেলেই খালি একটার পর একটা ছোবল মারে আর মানুষ মরে। মানবতা তো মানুষের জন্যই? নাকি আপনাদের কাছে মানবতার অর্থ শুধু মুসলিম সম্প্রদায়?

killed-blogger_0

যে দেশে হুমায়ূন আজাদ, রাজীব হায়দার, ওয়াশিকুর বাবু, অভিজিৎ রায়, নিলয় চট্টোপাধ্যায়, অনন্ত বিজয় দাস, জুলহাজ মান্নান, রাব্বি তনয়, অধ্যাপক রেজাউল, ধর্মীয় পুরোহিত সহ আরও অনেককে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিলো তখন আপনাদের এই মানবতা কোথায় ছিল? একবারের জন্যে তখন আপনাদের এই মানবতা জাগ্রত হয়নি?

কেন হয়নি জানেন?  কারন আপনারা ধর্ম রক্ষাকে মানবতার নাম দিয়েছেন। কারন আপনারা আপনাদের ধর্মকে এতই ছোট করে রেখেছেন যেখানে কোন ব্যাক্তির করা যেকোনো উক্তি বা কটূক্তিতে আপনাদের ধর্মের মান নষ্ট হয়ে যায়। এর জন্য দায়ী আপনারাই। ধর্ম এত ছোট নয় যে কারো করা উক্তি বা কটূক্তিতে ধর্মের এতটুকু মান নষ্ট হয়। এ তো আপনাদের মতো মানুষদের চিন্তাশক্তির বদৌলতে এত বিশৃঙ্খলা আর নৃশংস হত্যা সংঘটিত হচ্ছে। যেখানে ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যাবহার করছেন। করছেন ধর্ম নিয়ে ব্যাবসা। আপনাদের লজ্জাও করে না যখন আপনারা এই মানবতার দোহাই দিয়ে মনুষ্যত্বর কথা বলেন আবার মানবতার উদাহরণ দিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেবার দাবি জানাচ্ছেন।

আজ মুসলমান রোহিঙ্গাদের দেখে আপনাদের মানবতা জাগ্রত হয়! কিন্তু প্রতিদিন বাংলাদেশ থেকে আপনাদেরই অত্যাচারে যখন অনলাইন এক্টিভিস্ট আর অমুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ দেশছাড়া হচ্ছে, তখন আপনাদের এই মানবতাবোধ কোথায় থাকে? মুসলিম মুসলিম ভাই ভাই সে যে দেশেরই হোক না কেন, আর হিন্দু মুসলিম জাত শত্রু? কেন, বাংলাদেশের অমুসলিম সম্প্রদায় কি মানুষ না? বাংলাদেশ কি এদের না? বাংলাদেশে কি এদের বাঁচার অধিকার নাই? নাকি বাংলাদেশের সন্তান হয়েও এই দেশ অভিজিৎদের নয়, আর ধর্ম, ধর্মের ভাই বলে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের? তাইতো? এটাই তো আপনাদের মনের কথা?

আমার বাংলাদেশ ছোট্ট একটা দেশ। ৭১ এর যুদ্ধের সময় যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটা দেশ ছিল আমার এই বাংলাদেশ। যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশের পাশে দাঁড়িয়ে ভারতীয়রা কোন ভুল করে নাই। ওই সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর কেউ ছিল না। ভারতীয়দের পর্যাপ্ত পরিমানে জায়গা, সাহায্য এবং সহযোগিতা করার মতো অবস্থা ছিল বলেই তারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তখনকার একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের সাথে যদি আজকের মায়ামারের রোহিঙ্গাদের তুলনা করে মানবতার কথা বলেন, সেটাই হবে সবচেয়ে দুঃখজনক এবং আপনার নির্বুদ্ধিতার পরিচয়।

 বিষয়টা এখানে একদম স্পষ্ট, মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের বিষয়টি আর পূর্ব পাকিস্তানের যুদ্ধের সময় বাঙ্গালী শরণার্থীদের ভারতে আশ্রয় দেয়ার বিষয়টা সম্পূর্ণ আলাদা। মায়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যা এটা তাদের নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। সেটা ওদেরকেই মিটমাট করতে দিন।মায়ানমার একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ নয়। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ হলে সেটার ব্যাপার আলাদা। কোন দেশের আভ্যন্তরীণ দাঙ্গা ফ্যাসাদ বাঁধলেই কি অন্য কোন দেশ তাদের সীমান্তের দরজা খুলে দিতে হবে? এরকম হলে তো প্রত্যেক দেশ এই একই কাজ করতো। আমরা যেমন আমাদের দেশের দাঙ্গা ফ্যাসাদ আমরা নিজেরাই মোকাবেলা করার চেষ্টা করছি, এবং ভবিষ্যতেও করবো, ঠিক তেমনি রোহিঙ্গাদেরকেও শরণার্থী হবার বদলে তাদের মেরুদণ্ড সোজা করে ওদের নিজ দেশের অধিকার আদায় করে নেয়া উচিৎ। বাংলাদেশে যেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রধান সমস্যা সেখানে মানবতার দোহাই দিয়ে দেশকে আফগানিস্তান / সিরিয়া/ ইরাক বানানোর পাঁয়তারা করবে ষড়যন্ত্রকারীরা, সেটা মানাবো না। যে জাতি নিজের অধিকার আদায় করে নিতে জানে না সে জাতি অন্য দেশে এসে হিংস্র হয়ে উঠবেই এবং বাংলাদেশের এই বীরের জাতীটাকে শেষ করে দিতে চাইবে। অনলাইনে রোহিঙ্গাদের জিহাদি ভিডিওগুলো তারই আভাষ দেয়। এরা হিংস্র হয়ে উঠছে দিনে দিনে। এরা বাংলাদেশে ঢুকলে বাংলাকে সর্বস্বান্ত করে ছাড়বে। বাংলাদেশকে ছিঁড়ে খুঁড়ে খাবে। তখন না পারবেন গিলতে না পারবেন হজম করতে।

hqdefault

আর সুযোগসন্ধানী ধর্ম ব্যাবসার দালালেরা অনলাইনে রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচারের মিথ্যা ছবি তুলে ধরে, না জেনে, না বুঝে, সত্যতা যাচাই না করেই মানবতার দাবি নিয়ে চিৎকার করে এফবিতে হা হুতাশ করছে। এদের সাথে তাল মিলিয়ে যারা চিৎকার করে গলা ফাটাচ্ছেন, আপনারা শুধু বুদ্ধিভ্রষ্টই নন, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও। সিনেমার শুটিং এর ছবি, বন্যায়, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে মৃত্যুবরণ করা মানুষদের ছবি, অতীতে অন্যদেশের নৃশংস, বীভৎস অত্যাচারের ছবি দিয়ে রোহিঙ্গাদের উপর অন্যায় অত্যাচারের ছবি বলে চালিয়ে দিচ্ছেন আপনারা। লজ্জাও করে না আপনাদের। শেয়ার করার আগে তো ভাববেন, যা শেয়ার করছেন ওই ছবি গুগলে সার্চ দিলেই ছবির সকল তথ্য সামনে চলে আসছে। একে তো মিথ্যা ছবি শেয়ার করছেন আবার ধরাও পড়ছেন। ছিঃ! ছিঃ! ছিঃ! একে মানবতা বলছেন? আমি তো বলবো, এটা আপনাদের হিপোক্রেসি। মানবতাকে হাতিয়ার করে জঘন্য ধর্ম রাজনীতির সুকৌশল এক চাল মাত্র। মোদ্দা কথা, দেশে রোহিঙ্গারা আসলে মুসলমান শক্তি আরও শক্তিশালী হবে। এর পর বাংলাদেশ থেকে অমুসলিমদের নাম নিশানা মুছে দেবেন। বাংলাদেশ হয়ে উঠবে মুসলিম বাংলাস্থান। তারপর পৃথিবীতে বাংলাদেশ এর পরিচয় হবে যুদ্ধ বিধ্বস্ত আরেক সিরিয়া/ ইরাক/ আফগানিস্তান।এটাই তো চান আপনারা, যার কাছে মানবতার আরেক নাম ধর্ম ব্যাবসা!  দেশে আপনাদের মতো হিপোক্রেট থাকলে ধর্ম ব্যাবসা আর দেশের অতলে তলিয়ে যাওয়া ঠেকায় কে!  মনে রাখবেন, বাংলাদেশ অভিজিৎদের দেশ, রোহিঙ্গাদের নয়। আপনারা অভিজিৎদের কাছ থেকে দেশটা কেড়ে নিলেও এই দেশ রোহিঙ্গাদের হবে না কখনো।

border-fence