বিপন্ন সাঁওতাল জনগোষ্ঠী

পুনর্বাসনে জরুরি ব্যবস্থা নেয়া দরকার

গাইবান্ধায় শত শত সাঁওতাল মানবেতর জীবনযাপন করছে। গত কয়েকদিন ধরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে স্পষ্ট, সাঁওতালরা তাদের ভূমির অধিকারের বিষয়ে যে দাবি তুলে আসছে, সেই দাবি পূরণের বিষয়টি বেশ জটিল। তবে তা যত জটিলই হোক, যেহেতু তারা দেশের একটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, সেহেতু তারা তাদের বেঁচে থাকার ন্যূনতম সুযোগটুকু পাবে, এটাই প্রত্যাশা। বর্তমান গাইবান্ধায় যেসব সাঁওতাল মানবেতর জীবনযাপন করছে, তারা অতি দ্রুত স্বাভাবিক জীবনযাপন করার সুযোগ পাবে, দেশবাসী এটাই প্রত্যাশা করে।15036751_10210080194835233_7770790669262550737_n

সাঁওতালদের বড় একটি সমস্যা হল তাদের অনেকের ভূমির দালিলিক প্রমাণ নেই। শিক্ষা-দীক্ষায় অনগ্রসর হওয়ার কারণে অনেক সাঁওতাল নিজের দখলে থাকা ভূমির যে দালিলিক প্রমাণ থাকা দরকার, সেটাই জানেন না। দালিলিক প্রমাণ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা খুঁজে পাওয়াও কঠিন। সেক্ষেত্রে এসব মানুষ কি তাদের ভূমির অধিকার হারাবে? আমরা মনে করি, এ বিষয়টি সরকারের বিশেষ দৃষ্টিতে দেখা উচিত।

ইতিহাস বলে, সাঁওতালরা বিদেশী শক্তির বিরুদ্ধে বারবার প্রাণপণ লড়াই করে এদেশের ভূখণ্ড রক্ষা করেছে। এই অতীতের কর্মকাণ্ডকেও বিবেচনায় নিয়ে তাদের ন্যায্য অধিকার প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা দরকার।

বর্তমানে গাইবান্ধার সাঁওতালরা যে একটি বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার, এটি বিভিন্ন তথ্য থেকে স্পষ্ট। সাঁওতালরা অনগ্রসর হওয়ায় তাদের ব্যবহার করে কোনো মহল ফায়দা লোটার চেষ্টা করতেই পারে। সরকারের উচিত সেসব ষড়যন্ত্রকারীর মুখোশ উšে§াচন করে সাঁওতালদের স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত করা। আমরা বিভিন্ন সময় লক্ষ্য করেছি, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ে নানা রকম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। গাইবান্ধার সাঁওতালরা এরকম কোনো ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে কি-না, তা খুঁজে বের করা জরুরি।

15073361_10210080196235268_8771035665685399052_nসাঁওতালদের দেয়া তথ্য মতে, স্থানীয় এক নেতার উসকানিতে তারা বিভ্রান্ত হয়েছে। স্থানীয় যেসব নেতার উসকানিতে সাঁওতালদের কেউ কেউ বিভ্রান্ত হয়ে অনাকাক্সিক্ষত আচরণে লিপ্ত হয়েছিল, সেসব উসকানিদাতাকে খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া দরকার। সাঁওতালরা শত শত বছর ধরে এদেশে বসবাস করছে।

তাদের পুনর্বাসনে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নেবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। দেশের অনগ্রসর কোনো গোষ্ঠীকে স্থানীয় কোনো স্বার্থবাদী মহল যাতে বিভ্রান্ত করতে না পারে, সেদিকেও সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে। তা না হলে গাইবান্ধার মতো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা আবারও ঘটতে পারে।