ইসলামী খেলাফত ও তার রক্তাক্ত ইতিহাসঃ নন মুসলিম ভার্সন

লিখেছেনঃ কামিকাজি

ইসলামী খেলাফত ও তার রক্তাক্ত ইতিহাসঃ নন মুসলিম ভার্সন
আজকে আমরা ইসলামের খিলাফতের ইতিহাস সম্পর্কে কিছু জানবো। মুসলিমদের দ্বারা বিভ্রান্ত কোন ইতিহাস নয়, সঠিক ইতিহাস যা আমাদের অনেকেরই অজানা রয়ে আছে। কিভাবে ইসলামের বিস্তার ঘটেছে এবং খিলাফতের নামে কিভাবে কোটি কোটি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং এখনো তার হত্যাযজ্ঞ চলছে তার বিবরন থাকবে এই লেখায়।
মুসলমানরা কখনই তাদের ইতিহাসকে কখনই এমনভাবে উপস্থাপন করবে না, তাদের ধর্মও যে একটি বর্বরতায় পরিপূর্ণ ধর্মও যাতে সেটা কেউ জেনে যায়। যদিও অনেক বিধর্মী হত্যাকে আল্লাহ্‌র ইচ্ছা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে, এবং মূর্খ মুসলিমরা সেটা গাধার মত গিলে খেয়ে নিয়েছে।
কথায় আছে ,”যারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না, তারা আবারো একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করে”।
যখন ৬০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে মুহম্মদ ৬০০ পাখাওয়ালা জিব্রাইলের কাছ থেকে অহী পেয়ে (যদিও এইসব গালগপ্পো) নিজেকে শেষ নবী হিসেবে দাবী করে, সে প্রথমেই মক্কাতে ইসলাম প্রচার শুরু করে। নিজের বন্ধু বান্ধব, পাড়া প্রতিবেশীদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া শুরু করে। এরকম ভাবে সে ইসলাম প্রচারের চেষ্টা করে ১২ বছর। ১২ বছর চেষ্টার পরেও নিজের কাছের বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজন ছাড়া তেমন কেউ তার ধর্মে দীক্ষিত হয়নি। মক্কায় ইসলাম প্রচারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে চিন্তা করল মদীনায় যাবার। তখন মদীনা ছিল ইহুদীদের ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র এবং ধনী শহর। মুহম্মদ চিন্তা করল, সে যদি মদীনায় গিয়ে ইসলাম প্রচার করে এবং যদি ইহুদীরা সেটা গ্রহন করে, তাহলে মক্কায় তার সম্মান এবং প্রতিপত্তি বাড়বে যেটা তার ইসলাম ধর্মও প্রচার করতে সাহায্য করবে। তখন মুহম্মদ তখনকার সময়ে যত ধর্মগ্রন্থ ছিল যেমন বাইবেল, পৌত্তলিক, তোরাহ সবগুলিকে একসাথে করে একটি ধর্মগ্রন্থ তৈরি করার চেষ্টা করল যাতে এটি ইহুদীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। এইজন্যই ইহুদী ধর্ম এবং ইসলাম ধর্মের মধ্যে অনেক মিল লক্ষ্য করা যায়। উদাহরনস্বরূপ, মুসলিমরা শুকর খায়না, ইহুদীরাও শুকর খায়না। ইহুদীরা দিনে কয়েকবার প্রার্থনা করে, মুসলমানেরা পাঁচ বার নামাজ পড়ে। ইহুদীরা ইয়ুম কিপুরে অভুক্ত থাকে, মুসলিমরা রমজান মাসে রোজা রাখে। এমনকি প্যাগানদের ধর্মের সাথেও ইসলামের অনেক মিল পাওয়া যায়। প্যাগানদের চন্দ্র দেবতা হুবালের অবিকল বিবরন পাওয়া যায় কুরআনে, এমনকি হুবালের প্রতীক চাঁদ তারা চিহ্নটিও ইসলামের চিহ্ন হিসেবে মসজিদের মিনারের উপরে দেখতে পাওয়া যায়
সেই কারনেই কুরআনের প্রথম দিকে খেয়াল করলে দেখবেন, সব ভাল ভাল কথা লেখা। কারন এই ভাল ভাল লেখার মাধ্যমেই মদীনার ইহুদীদের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করাই ছিল তার লক্ষ্য। তারপর সে মদীনায় গিয়ে বলা শুরু করল, এই দেখো তোমাদের নবীদের সাথে আমাদের কত মিল, তোমাদের ধর্মের সাথে আমাদের কত মিল, আমিই হলাম শেষ নবী, তোমরা ইসলাম ধর্ম গ্রহন কর। যখনি ইহুদীরা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতে অস্বীকৃতি জানালো, তখনি মুহম্মদ হত্যাযজ্ঞ শুরু করল যুদ্ধের নামে। প্রথম ১২ বছর যেই ধর্ম শান্তিপূর্ণ ছিল, কিছু অনুসারী যুক্ত হয়ে যাবার পর সেই শান্তির ধর্ম পরিনত হয় একটি রাজনৈতিক খুনী ধর্মে। ১২ বছর পর, মদীনায় হিজরতের পরেই যখনি অনেক ইহুদী গোষ্ঠী ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতে অস্বীকৃতি জানায়, তখনি রাজনীতির প্যাচে যুদ্ধের মাধ্যমে ধর্ম প্রচার শুরু করে যুদ্ধবাজ মুহম্মদ। যেই মদীনা ছিল ইহুদী এবং খ্রিস্টানদের ব্যবসাকেন্দ্র, খুনী মুহম্মদের হত্যাযজ্ঞের কারনে মদীনা মুসলমানদের আয়ত্তে চলে আসে। তখন ইহুদীরা এবং খ্রিস্টানরা সংখ্যালঘু হিসেবে পরিনত হয়, এবং তাদের উপর ধার্য করা হয় জিজিয়া কর। যদি জীবিত থাকতে চাও, জিজিয়া কর পরিশোধ করতেই হবে। এই জিজিয়া কর হল মুসলমানরা যাতে তাদের হত্যা না করে সেই জন্য তাদের প্রটেকশন ট্যাক্স। ইহুদী খ্রিস্টানদের হাতে তখন দুইটা পথ খোলা ছিল, হয় ইসলামের পথে আসো, নইলে জিজিয়া কর দিয়ে জীবন্ত থাকো। এইজন্যেই ইসলামিক দেশে বাধ্যতামুলকভাবে এখনও অমুসলিমদের জিজিয়া কর পরিশোধ করতে হয়। খ্রিস্টানরা তখন চার্চের ঘন্টা বাজাতে পারতো না, জনসম্মুখে প্রার্থনা করতে পারতো না, খ্রিস্টান এবং ইহুদীরা কখনো নতুন চার্চ বা প্রার্থনাকেন্দ্র তৈরি করতে পারত না। প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট দিনে খ্রিষ্টান এবং ইহুদীরা একত্রিত হয়ে নতজানু হয়ে মোল্লাদের কাছে জিজিয়া ট্যাক্স প্রদান করত। এবং তাদের গলায় একটি নেকলেস পড়ে থাকতে হত, যেটা একটা রশিদ এবং প্রমান হিসেবে থাকতো যে এই ইহুদী অথবা খ্রিষ্টান জিজিয়া কর দিয়েছে, একে না মারা হোক।
আস্তে আস্তে ইসলামের প্রসার বাড়তে লাগলো। যুদ্ধ এবং খুনের বিরুদ্ধে শান্তিকামী বিধর্মীরা টিকতে পারছিল না। তারা আত্মসমর্পণ করা শুরু করল। ইহুদী এবং খ্রিস্টানদের খুব নিচু দৃষ্টিতে দেখা হত। তাদের পোশাক ভিন্ন ছিল। তাদের কাপড়ে বাধ্যতামুলকভাবে হলুদ রঙের তারা চিহ্ন পড়ে থাকতে হত। অনেকেই ভাবে ইহুদীদের এই হলুদ রঙের তারা চিহ্ন পড়ানো হয়তবা হিটলারের মাথা থেকে এসেছে। আসলে এটা ইসলামের আবিষ্কার। নবম শতাব্দীতেও ইরাকে দ্বিতীয় খলিফা খলিফ আল মুতাওয়াক্কি এই হলুদ তারা চিহ্নের প্রচলন করেন ইহুদীদের জন্য। তখনো ইহুদিদের সংখ্যালঘু হিসেবে ধরা হত। যদি একজন মুসলিম এবং একজন ইহুদী রাস্তার একই দিকে মুখোমুখি হত, ইহুদীকে রাস্তা পার হয়ে অপর দিক দিয়ে চলতে হত। কারন ইহুদীদের তখন নোংরা, অশুচি অথবা পশুর সমতুল্য মনে করা হত। যাতে ইহুদীদের স্পর্শ না লাগে তাই তাদের মুসলমানদের আসে পাশেও যাওয়া মানা ছিল। খ্রিস্টানদের জন্য দেয়া হয়েছিল ” জুন্নার ” নামক বেল্ট যাতে তাদের চিহ্নিত করা যায়। এখন আমরা যে বেল্ট পড়ি, এটা মুসলমানদের আবিষ্কার খ্রিস্টানদের আলাদা করার জন্য।
ইতিমধ্যে মুসলিমরা পৌঁছে যায় জেরুজালেমে। তারা জেরুজালেম দখল করে ফেলে। সেইখানেও খ্রিস্টানদের উপর জুলুম নির্যাতন শুরু হয়। সেই সময়ে ১০৯০ খ্রিস্টাব্দে রোমের পোপ খ্রিস্টানদের এই জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার আহ্বান জানান। সমগ্র খ্রিস্টানদের একতাবদ্ধ হয়ে জেরুজালেমে নির্যাতিত খ্রিস্টানদের উদ্ধার করার ঘোষনা দেওয়া হয়। ঠিক তখনই শুরু হয় ক্রুসেড যুদ্ধ। ক্রুসেডাররা কোন কারন ছাড়াই মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেনি। ক্রুসেডারদের মুল লক্ষ্য ছিল জেরুজালেমকে মুক্ত করা। ক্রুসেডাররা ১০০ বছর পর্যন্ত জেরুজালেম স্বাধীন রেখেছিল যতক্ষণ না পর্যন্ত মুসলিম সেনাপতি সালাহাদিন আইয়ুবী জেরুজালেম আবার দখল করে নেয়। আবারো শুরু হয় জেরুজালেমে মুসলিম শাসন। শেষ পর্যন্ত ১৯৬৭ সালে ইহুদীরা আবার জেরুজালেম তথা ইজরায়েল দখল করে নেয় এবং ইহুদী খ্রিষ্টান মুসলিমদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা পায়।
ক্রুসেডাররা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে ৩০০ বছর পর্যন্ত কিন্তু বার বার ব্যর্থ হয়েছিল জেরুজালেম মুক্ত করতে। ১৩০০ শতাব্দীর শেষের দিকে এসে ক্রুসেডাররা বিলুপ্ত হয়ে যায় কারন তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে একবারও জয়লাভ করতে পারেনি। ধীরে ধীরে ইসলাম সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। মুসলিমরা পৌঁছে যায় ইউরোপে, চায়না, ইন্ডিয়া। তারা দখল করে নেয় স্পেন এবং স্পেনের নাম পরিবর্তন করে রাখে আন্দালুসিয়া। ধীরে ধীরে আরো অনেক দেশ দখল করে নেয় মুসলিমরা। এবং সেই সব দেশের বিধর্মীরা জিজিয়া কর প্রদান করতে শুরু করে। এভাবেই গড়ে ওঠে ইসলামিক সাম্রাজ্য।
শেষ পর্যন্ত মুসলিমরা আটকে যায় ভিয়েনার সিমান্তে নভেম্বরের ৯ তারিখে। নভেম্বরের ৯ তারিখ অনেক বিখ্যাত টুইন টাওয়ার হামলার কারনে। এই তারিখটি মুসলিমদের কাছে অনেক গুরুত্ব বহন করে। ১৬০০ শতাব্দীর দিকে পৃথিবীর প্রায় সব প্রান্তে ইসলামের আধিপত্য বিস্তার করে। ১৬০০ থেকে ১৮০০ শতাব্দীর দিকে রোমান সাম্রাজ্য শিল্পে অনেক উন্নতি সাধন করে। তারা অনেক পন্য তৈরী এবং বিক্রি করা শুরু করে। এই অর্থ দিয়ে তারা রোমান সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য। এবং এই সামরিক শক্তি দিয়েই তারা নভেম্বরের ৯ তারিখে ভিয়েনার সীমান্তে মুসলিম বাহিনীকে থামিয়ে দেয়। রোমানরা তখন মুসলিমদের পিছু হটিয়ে দিতে শুরু করে। মুসলিমরা রোমানদের সাথে পেরে না উঠে ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকাতে চলে যেতে বাধ্য হয়। ১৯২৪ সালে ইসলামী আধিপত্য শেষ হয় তুরস্কে কামাল আতাতুর্ক এর হাতে। কামাল আতাতুর্ক ছিলেন একজন সেক্যুলার দেশনায়ক এবং তিনি ইসলামী খিলাফত শেষ করে দেন। তিনি নারীদের ভোট দেওয়ার অধিকার দেন, তাদের কাজ করার অধিকার দেন, পড়াশুনা করার অধিকার দেন, স্বামী পছন্দ করার অধিকার দেন। মেয়েদের বাধ্যতামুলক হিজাব বাতিল করেন, পুরুষদের বাধ্যতামুলক দাড়ি রাখা বাতিল করেন। এই সমস্ত কার্যক্রমের জন্য মুসলিমরা তাকে মনে প্রানে ঘৃণা করে থাকেন এবং অনেকেই তাকে ইহুদীদের এজেন্ট বলে দাবী করে থাকেন। ১৯২৪ সালে কামাল আতাতুর্কের হাতেই ইসলামী খিলাফত তথা ইসলামী সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়। সারা বিশ্বে ইসলামী খিলাফত বজায় ছিল প্রায় ১৪০০ বছর এবং এর শেষ হয় প্রায় ১০০ বছর আগে। এই ১৪০০ বছরে সারা বিশ্বে প্রায় ২৭ কোটি (২৭০ মিলিয়ন) মানুষ হত্যা হয় মুসলিমদের হাতে। মনে করিয়ে দেই সেই সময় কোন এটম বোমা অথবা নিউক্লিয়ার মিসাইল ছিল না। এই ২৭ কোটি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে কসাইয়ের মত শুধু তলোয়ার দ্বারা আর বল্লম দ্বারা। সহিহ বুখারীতেও বর্ণনা করা হয়েছে ইসলাম বিজয়ী হয়েছে সন্ত্রাসের মাধ্যমে।
সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২২০:
শত্রুর মনে সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে আমাকে বিজয়ী করা হয়েছে।
সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ৭৩:
তোমরা জেনে রাখ, তরবারীর ছায়ার নীচেই জান্নাত।
এই কারনেই সৌদি আরবের পতাকায় তরবারির প্রতীক এখনো দেখতে পাওয়া যায়।
১৯২৪ সালে যখন ইসলামী খিলাফত যখন থেমে যায় সবাই মনে করেছিল, ইসলামী খিলাফত আর ফিরে আসবে না। কিন্তু শেষ ১০০ বছরে মধ্যপ্রাচ্যে ২ টি কারনে ইসলামী খিলাফত আবার নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। একটি হল সৌদি আরবের তেল বিক্রির টাকা এবং আরেকটি হল ১৯৭৯ সালে ইরানে আয়াতুল্লাহ খোমেনীর ক্ষমতা গ্রহন। মুসলিমরা তখন টাকাও পায় এর সাথে সাথে পায় ইসলামিক মতাদর্শ। অনেকেই বলে সৌদি আরব ওহাবী মতাদর্শে চলে এরা সহিহ মুসলিম নয়। কিন্তু ওহাবীরা মুহম্মদের মুখের বানী এবং তার কাজকর্মকে শতভাগ অনুকরন করে চলে। এবং এই কারনেই কোন অমুসলিম মক্কা শরিফে প্রবেশের অনুমতি পায়না কারন মুসলিমরা মনে করে অমুসলিমরা অপবিত্র এবং ঘৃণিত। আইসিস সবসময়ই নতুন সদস্য সংগ্রহ করার সময় সৌদি আরবকে উদাহরন হিসেবে দেখায় যে ,দেখো সৌদি আরবকে আল্লাহ্‌ কত মেহেরবানী করেছেন এইজন্য যে তারা ইসলামকে রক্ষা করে চলছে। তারা কাফেরদের দেশে ঢুকতে দেয় না, ইসলামী শাসনতন্ত্র মেনে চলে তাই আল্লাহ্‌ এই দেশকে তেল দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন।
আইসিস ইসলামী খেলাফতেরই আরেকটি পুনরুত্থান। কারো মনে প্রশ্ন জাগেনা আইসিস কিভাবে এত অল্প দিনে এত বিস্তার লাভ করেছে অথবা এত অর্থ সাহায্য কোথা থেকেই বা পাচ্ছে।
ইসলাম এবং ইসলামী যুদ্ধের নীতি সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমাদের জেনে রাখা দরকার।
একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হচ্ছে, তাকিয়া আইন। তাকিয়া শব্দের মানে হল মিথ্যা অথবা ধোঁকা। তার মানে হল একজন মুসলিম কোরানের উপর হাত রেখেও মিথ্যা কথা বলতে পারবে, কারন সে জানে আল্লাহ্‌ তাকে ক্ষমা করবে কারন সে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করছে।
আরেকটি হল হুদাইবিয়ার সন্ধি। যেটা একটি ইসলামিক যুদ্ধের আদর্শ এবং কিভাবে শান্তিচুক্তি করেও শত্রুকে কিভাবে ধোঁকা দিয়ে পরাজিত করতে হয়। এটি মুহম্মদের জীবনের আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত। মুহম্মদ নিজেও অনেক কাফেলাতে আক্রমন করে তাদের জবাই করে হত্যা করে লুন্ঠন চালিয়েছে। সব পুরুষকে হত্যা করে নারীদের সাহাবাদের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছে এবং বাকিদের দাসদাসী হিসেবে বাজারে বিক্রি করে সম্পদ গড়ে তুলেছিল। এবং এই লুন্ঠনকৃত মালামাল এবং নারীদের গনীমতের মাল হিসেবে বিবেচনা করা হত। তখন কোন কাজকর্ম ছাড়াই অর্থলাভ করার এর চেয়ে ভাল কোন উপায় মুহম্মদ খুজে পায়নি। তবে কয়েকটি মাসে কোন ধরনের রক্তপাত নিষিদ্ধ ছিল তখনকার মক্কা এবং মদীনায়। তাই নিষিদ্ধ মাস শেষ হবার সাথে সাথেই আবার আক্রমন শুরু করে মুহম্মদ।
কোরানেও বলা আছে,
সুরা তাওবা – ৯: ৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
কিন্তু কিছু মক্কার কাফেলা অনেক বড় এবং শক্তিশালী থাকায় তাদের আক্রমন করার সাহস পায়নি মুহম্মদ। তখন তাদের সাথে ১০ বছরের শান্তিচুক্তি করে। চুক্তিগুলি ছিল যে এই ১০ বছরে মুহম্মদ তাদের কাফেলার উপর আক্রমন করবে না, শান্তি বজায় থাকবে অথবা কোন রকম যুদ্ধ করা যাবে না। প্রথম ২ বছরে মুহম্মদ সেনাবাহিনী গঠন করে এবং তাদের শক্তিশালী করে। যখন সে বুঝতে পারল যে এখন সে মক্কার উপর আক্রমন করার জন্য সক্ষম তখন সে মক্কায় আক্রমন করে বসলো। মক্কার মানুষরা এই হামলার জন্য প্রস্তুত ছিলনা কারন তারা জানত যে যেহেতু চুক্তি করা আছে সেহেতু মুহম্মদ আক্রমন করবে না। এবং এভাবেই হুদাইবিয়ার চুক্তি ভঙ্গ করে মুহম্মদ খুব সহজেই মক্কা দখল করে ফেলে।
এখনো মুসলিমরা এই হুদাইবিয়ার সন্ধির মত চুক্তি করে ধোঁকার মাধ্যমে বিজয়ী হওয়ার চেষ্টা করেই যাচ্ছে। একটা উদাহরন দেই, শিয়া অধ্যুষিত ইরানের সাথে অন্য কোন দেশ যতই চুক্তি করুক না কেন, তারা জানে এই চুক্তির এক পয়সাও মুল্য নেই।
সারা মুসলিম বিশ্বে ২০১৩ সালে একটি সমীক্ষা চালানো হয়। ২ টি প্রশ্ন করা হয়েছিল তখন।
একটি হল, ” আপনি কি আপনার দেশে শরিয়া আইন দেখতে চান?”
দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিল, ” আপনি কি ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠা দেখতে চান?”
মনে করিয়ে দিতে দেই, এই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল আইসিস গঠনের আগে। পাঁচটি সবচেয়ে বড় মুসলিম প্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়া,পাকিস্তান, ইজিপ্ট, নাইজেরিয়া এবং বাংলাদেশের ৭৭% জনগোষ্ঠী ইসলামী খিলাফত এবং শরিয়া আইনের পক্ষে সমর্থন দিয়েছিল। সুতরাং যারা নিজেদের মডারেট মুসলিম মনে করে তারাই কিন্তু এই সমীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এবং বর্তমানে তাদের ইচ্ছাই সত্যি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আইসিস। এবং আইসিস আজ যেসব হত্যাকান্ড ঘটাচ্ছে, তার নিরব সমর্থনকারী এই মডারেট মুসলিমরাই।
এই হল ইসলামের উত্থানের সত্যি ঘটনা যা বিভিন্ন বিশ্বস্ত সুত্র, উইকি এবং ইসলামী ইতিহাস থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছে যা বাংলাদেশের কয়জন জানে সেটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে আমার। আইসিস আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য। তারা ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। এখনই যদি এদের থামানো সম্ভব না হয় পৃথিবীর জন্য অনেক দুর্ভাগ্য অপেক্ষা করছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।